* সবার মতামতের ভিত্তিতে জুলাই ঘোষণাপত্র
* ঐক্যবদ্ধভাবে দিতে না পারলে ঘোষণাপত্রের দরকার নেই : ড. ইউনূস
* আরও আলোচনার ভিত্তিতে ঘোষণাপত্র প্রণয়নে গুরুত্ব দিয়েছেন সবাই: আসিফ নজরুল
একতাতেই আমাদের জন্ম, একতাতে আমাদের শক্তি। ঐক্যের মাঝে এ সরকারের জন্ম হয়েছে। ৫ আগস্টের পুরো অনুভূতিটাই ছিল একতার অনুভূতি। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জুলাই সনদ ঘোষণার বিষয়ে সর্বদলীয় ঐক্যের সভায় সূচনা বক্তব্যে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এসব কথা বলেন। বৈঠকে অংশগ্রহণকারী সবার উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, সবার সঙ্গে দেখা হলে, কথা হলে আমার কাছে খুব ভালো লাগে। মনে সাহস পাই। কারণটা পরিষ্কার। কারণ এ সরকারের জন্ম হয়েছে ঐক্যের মাঝখানে। ঐক্যের দ্বারা এটার সৃষ্টি।
তিনি বলেন, যখন আমরা নিজেরা নিজেরা কাজ করি, হঠাৎ দেখি একা পড়ে গেছি আশপাশে কেউ নেই, তখন একটু দুর্বল মনে করি। যখন আবার সবাই একসঙ্গে হন, তখন মনে সাহস পাই যে আমরা একতাবদ্ধভাবে আছি। সবাইকে দেখলে সরকারের মাঝে প্রাণসঞ্চার হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সনদ ঘোষণার প্রেক্ষাপট বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি বলেন, মাঝখানে একদিন ছাত্ররা এসে বললো তারা একটা প্রক্লেমেশন সনদ ঘোষণা করবে, আমাকেও সেখানে থাকতে হবে। আমি বুঝতে চাইলাম কী প্রক্লেমেশন দিচ্ছে। তারা বললো। তাদের কথা শুনে আমি বললাম যে এটা হবে না। এটা হবে না, আমার চাওয়াটাও হবে না, তোমাদেরও করা ঠিক হবে না।
কারণ তোমরা যদি ৫ আগস্টে ফিরে যেতে চাও, সেদিনের পরিপ্রেক্ষিতে যা হয়েছিল সেটাকে রিক্রিয়েট করতে হবে। একা এটা করা যাবে না। ঐদিনের পুরো অনুভূতিটাই ছিল একতার অনুভূতি। কেউ বলে নাই যে তুমি অমুক তুমি অমুক। তোমরা যদি করতে চাও, সবাইকে নিয়ে করতে হবে। এটা পরিষ্কার, এটা না করলে এটা ঠিক হবে না। যে একতা দিয়ে তোমরা ৫ আগস্ট সৃষ্টি করেছিলে সেটার অবমাননা হবে। ওই সময় শিক্ষার্থীরা আমার কথায় খুব একটা খুশি হয়নি। কিন্তু ক্রমে তারা বুঝলো যে ৫ আগস্ট যদি রিক্রিয়েট করতে হয়, তাহলে এভাবে একত্রে করতে হবে। সে কথা থেকেই এ আলাপ শুরু। কীভাবে একত্রে করা যাবে। আজকের আলোচনাকে কেন্দ্র করেই হবে। যেখানে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে করতে পারবো না, উদ্দেশ্য ব্যাহত হলে দরকারও নেই। দরকারটা হলো, ওইটুকু স্মরণ করিয়ে দেবে, ওই যে আমি বললাম তো আপনাদের দেখলে আমার মনে সাহস আসে। সবার মনেই সাহস আসবে সবাই যদি আমরা একত্রে যাই। সারাদেশ একেবারে চমকে উঠবে যে আমরা তো আছি, জেগে আছি এখনো। আমরা ভোঁতা হয়ে যাইনি। আমাদের অনুভূতি এখনো ভোঁতা হয়নি। আমাদের অনুভূতি এখনো সেই চাঙ্গা আছে। আমরা জাতি হিসেবে ঐক্যবদ্ধভাবে আছি। তিনি বলেন, আপনারা দোয়া করবেন, আমি যতদিন আছি এই একতা নিয়েই থাকবো। কাজেই সে পথে আমাদের চলতে হবে। আমাদের সেই সাহসটা আপনারা দেন, যখন আমি আপনাদের সঙ্গে একত্রে বসি। আপনাদের দেখে আজকে খুবই সাহসী মনে হচ্ছে ৫ আগস্টের কথা স্মরণ করে। আমরা একতাবদ্ধভাবে আছি এবং কীভাবে সেই একতাকে মানুষের সামনে প্রকাশ করবো, ৫ আগস্টকে রিক্রিয়েট করবো সেটাই এখন আলাপের বিষয়বস্তু হবে।
তিনি উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, যেহেতু তাড়াহুড়ার মধ্যে এটা করতে হচ্ছিল তাই একটু এলোমেলো হয়ে গেছে। আপনারা মনে কষ্ট নেবেন না। কিন্তু আমরা যে বিষয়টা নিয়ে আলাপ করছি সেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি সর্বসম্মতিক্রমে এ থেকে একটা দেশের সামনে আসতে পারি, সেটা দেশের জন্য ভালো, আন্তর্জাতিকভাবেও অনেক ভালো। সবাই দেখবে যে এই জাতিকে অনেক ঠোকরাঠোকরি করা হয়েছে, কিন্তু সবাই স্থির হয়ে আছে, শক্ত হয়ে আছে। সেটা আমরা সারা দুনিয়া ও দেশবাসীকে জানাতে চাই।
এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে রাজনৈতিক শক্তি, ছাত্র জনতা সবার মধ্যে আরও বেশি আলোচনার ভিত্তিতে ঘোষণাপত্র প্রণয়ন করার প্রতি সর্বদলীয় বৈঠকে সবাই গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের নেতৃত্বে জুলাই অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র প্রণয়ের বিষয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বিএনপি, জামায়াত, হেফাজতে ইসলাম, বামমঞ্চ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জাতীয় নাগরিক কমিটিসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব রাজনৈতিক শক্তি অংশগ্রহণ করেছে। বৈঠক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র প্রণয়ের বিষয়ে সবাই একমত হয়েছে জানিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, সবাই বলেছেন এ ধরনের একটা ঘোষণাপত্র করার দরকার আছে। তবে এখানে অনেক সাজেশন আসছে; মোটাদাগে হলো-ঘোষণাপত্রে সবার অবদান বলতে হবে, ধারাবাহিকতা উল্লেখ করতে হবে। ঘোষণাপত্রের রাজনৈতিক নেচার বা লিগ্যাল নেচার কি হবে সেটা স্পষ্ট করতে হবে। বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে এই ঘোষণাপত্র আরও বেশি আলোচনার ভিত্তিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে রাজনৈতিক শক্তি, ছাত্র-জনতা-সবার মধ্যে আলোচনা করে সর্বসম্মতিক্রমে এটাকে প্রণয়ন করতে হবে। এটার জন্য যত সময় প্রয়োজন সময় নেয়া যেতে পারে। তবে এটাও বলছে যাতে অযথা কালবিলম্ব না হয় সেই মতামত দিয়েছে। সবাই ঐকমত্য হয়েছে, আরও নিবিড় পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এই ধরনের ঘোষণাপত্র হওয়া উচিত। সবাই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন এই প্রক্রিয়ায় আমরা সফল হতে সক্ষম হবো।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সবাই একত্রিতভাবে ফ্যাসিস্ট গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছি, তেমনি সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে এই ঘোষণাপত্র তৈরি করতে পারবো। সময়সীমা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সব রাজনৈতিক দল ও ছাত্রদের সংগঠনের যারা অংশ নিয়েছে সবাই বলেছেন ঐকমত্য পোষণ করে সর্বসম্মতিক্রমে একটি ঘোষণাপত্র তৈরি করার জন্য। যত সময় লাগুক তা যেন নেয়া হয়। তাড়াহুড়ো যেন না করা হয়। অযথা কালক্ষেপণ না করা হয়। এই লক্ষ্য অনেকে প্রস্তাব করছে আলোচনা করার জন্য যাতে একটি কমিটি গঠন করা হয়। আমরা এই প্রস্তাবগুলো দ্রুত বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবো।
ঘোষণাপত্র নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি হচ্ছে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কোনোরকম দূরত্ব সৃষ্টি হয় নাই। শুধুমাত্র কি পদ্ধতি করা হবে, বিভিন্নরকম মতামত আসছে। সব মতামতকে আমরা স্বাগত জানাই। কোথাও আমরা অনৈক্যের সুর দেখি না-বরং সবাই বলছে এই ঘোষণা যেন সবার মালিকানা থাকে, সেই বিষয়ে বিভিন্ন মতামত আসছে। এমন মতামতে সবার ঐক্য আরও সুদৃঢ় হবে। ঘোষণাপত্র নিয়ে আরও আলোচনা হবে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আলোচনা হতে পারে, কমিটি হতে পারে, ওনাদের (রাজনৈতিক দল) মতামত নিয়ে খুব দ্রুত একটা কর্মকৌশল ঠিক করবো।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

একতাই আমাদের শক্তি
- আপলোড সময় : ১৭-০১-২০২৫ ০২:৩৪:৪৬ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৭-০১-২০২৫ ০২:৩৪:৪৬ অপরাহ্ন


কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ